কলেজের ইতিবৃত্ত

চুনারুঘাট সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত

চুনারুঘাট বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থান। ১৩০৩ খ্রীষ্টাব্দে হযরত শাহাজালার (র:)-এর আধ্র্যাত্নিক নেতৃত্বে সিলেট বিজয়ের পর রাজপুর (পরে তরপ) রাজা আচাক নারায়ণ কর্তৃক চুনারুঘাট থানার কাজিরখিল নিবাস কাজী হেলিম উদ্দিনের ছেলের বিয়ে উপলক্ষে গরু জবাই করার অপরাধে আচাক নারায়ণ কাজী পুত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। তখন সিলেট অঞ্চলে লাউড়, গৌড়, চন্দ্রপুর, (বর্তমান মৌলভীবাজার জেলা) জৈন্তিয়া, রাজপুর (তরপ) প্রভূতি সামন্ত রাজ্য ছিল বলে ইতিহাসে উল্লেখ পাত্তয়া যায়। রাজা আচাক নারায়ণের রাজধানী ছিল বর্তমান ১নং গাজীপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত আঠারমোড়া নামক স্থানে।বর্তমান স্থানে থানা প্রতিষ্ঠার আগে ১৯১৪ সনে আসাম প্রাদেশিক সরকার কর্তৃক বর্তমান মিরাশী ইউনিয়নের অন্তর্গত "মুছাকান্দি" নামক স্থানে থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। পর ১৯২২ খ্রীষ্টাব্দে আসাম প্রাদেশিক সরকারের গেজেট নোটিফিকেশন এর মাধ্যেমে বর্তমান স্থানে থানা সদর স্থানান্তরিত হয়। ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ছাতক থেকে নদী পথে চুনা এনে এখানে মত্তজুত করে বিভিন্ন স্থানে চালান দেত্তয়া হত। এ কারণে স্থানের নাম হয় "চুনারুঘাট"। যা বর্তমানে চুনারুঘাট নামে পরিচিত। চুনারুঘাট থানার মুড়ারবন্দ দরগাহ শরীফে সিলেট ত্ত তরপ বিজয়ী সিপাহশালার সৈয়দ নাসিরউদ্দিন (র:) এর মাজার শরীফসহ বেশ কয়েকজন অলি আউলিয়ার মাজার বিদ্যমান। শিক্ষা-দীক্ষায় এ থানা প্রাচীনকাল থেকেই দেশ বিদেশ খ্যাতি লাভ করে আসছে। অপাধ জ্ঞান সাধনার জন্য সৈয়দ শাহ ইব্রাহীম (র:) দিল্লীর দরবার থেকে মালেক-উল-উলামা এবং সৈয়দ শাহ ইসরাইল (র:) মুলক-উল-উলামা উপাধি লাভ করছিলেন। এছাড়া সৈয়দ শাহ ইলিয়াস কুদ্দুছ (র:) কুতুবুল আউলিয়া হিসেবে সর্বত্র পরিচিত। চুনারুঘাট থানায় হাইস্কুল পনেরটি, প্রাথমিক বিদ্যালয় একশত এগারটি এবং মাদ্রাসা তেইশটি তন্মধ্যে প্রাচীন হাই স্কুল হচ্ছে ১৮৮৭ খ্রীষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত মিরাশী হাই স্কুল।[তথ্য নির্দেশ : সৈয়দ মোস্তফা কামাল-হবিগঞ্জ পরীক্রমা।] দীর্ঘদিন থেকে এ থানায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়ে আসছিল।থানাবাসীর দীর্ঘদিনের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে ১৮/১০/১৯৭১ইং তারিখে ডাকবাংলা প্রাঙ্গণে থানার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। অত:পর এ কমিটি ৬/৪/৭৩ইং তারিখের এক সভায় ৭/৪/৭৩ইং তারিখ হতে চুনারুঘাট পুরাতন হাসপাতালের একটি ভবনে কলেজ চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। শিক্ষাবোর্ডের স্বীকৃতি লাভের জন্য দেত্তরগাছ নিবাসী মো: আব্দুল হাশিম, মো: আব্দুল আজিদ ত্ত মো: আব্দুল মান্নান তিন একর জমি কলেজের নামে বিনামূল্যে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে শিক্ষার প্রতি অনুরাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। (যদিত্ত পরে এ জমি তাদেরকে কলেজের কাজে নান লাগার জন্য ফিরৎ দেয়া হয়েছে।)কলেজ প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্নেজনাব আজিজুর রহমান (ছুরুক মিয়া) সহ আরত্ত অনেকে যে শ্রম ত্ত ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা' সত্যিকার অর্থেই প্রশংসাই। শ্রী হিমাদ্রী চৌধুরীকে কলেজের প্রিন্সিপ্যাল নিয়োগ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে জনসাধারণকে উৎসাহিত করে অর্থ সংগ্রহ, ভবন নির্মাণে ব্যবস্থা, শিক্ষা বোর্ডের স্বীকৃতি, ছাত্র/ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশাসন ত্ত জনগণের সাথে সঠিক যোগাযোগ করে কলেজটিকে এগিয়ে নিতে আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জিত না হত্তয়ায় ১৮/০৫/৭৭ইং তারিখে মো: আব্দুল হাইকে কলেজের প্রিন্সিপ্যাল (বর্তমান ভাইস প্রিন্সিপ্যাল) নিয়োগ করা হয়। তিনি এ বিপর্যস্ত কলেজটির বিলুপ্তির সংকটকালে দৃঢ় আত্নপ্রত্যয় ত্ত আত্নত্যাগ স্বীকার করে হাল ধরার ফলে কলেজটি পুনর্জন্ম লাভ করে এবং নিশ্চিত বিলপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়ে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যায়।